করোনায় রাজশাহীর খামারিদের মাথায় হাত

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০, 518 জন দেখেছেন

সুজন রাজশাহী প্রতিনিধি:

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজশাহীর জেলার সবেচেয় বড় হাট সিটি হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও নেই বেচাকেনা। করোনার কারণে জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা পশু কিনতে আসছেন না। পশুর হাটের ওপর ভরসা করতে পারছেন না রাজশাহীর জেলার গরু খামারিরা। শেষ সময়ে আদৌ হাট জমবে কিনা, ক্রেতারা আসবে কিনা- এ আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
এছাড়াও করোনা পরিস্থিতিতে তারা লাভবান হতে পারবেন কিনা- সে চিন্তাও মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের। তাই হাটের অপেক্ষায় না থেকে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে পশু বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা।
খামারিরা বলছেন, পরিস্থিতি বুঝেই তারা সিদ্ধান্ত নিতে চান। দাম পেলেই কেবল পশু হাটে তুলবেন। অন্যথায় লোকসান দিয়ে তারা পশু বিক্রি করবেন না। যে কারণে সঠিক দামে আগে থেকেই বিক্রির চেষ্টা করছেন।
রফিকুল নামের এক খামারি বলেন, বর্তমানে পশুর খাদ্যের অতিরিক্ত মূল্য। এছাড়া অন্যান্য খরচ মিলে গরুর লালন-পালনে ব্যয় বেড়েছে। তবে করোনা রোগ না থকলে হাটে ক্রেতা সমাগম হতো বলে মনে করছেন তিনি।
গরু ব্যবসায়ী শাহীন বলেন, তার কোরবানিযোগ্য ১৫টি গরু আছে। কিন্তু করোনার পরিস্থিতির কারণে এবার গরু কেনায় আগ্রহী কোনো ব্যাপারির দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পশুর হাটে ক্রেতার অভাবে দাম পড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অন্তিম কুমার সরকার জানান, রাজশাহী জেলায় কোরবানির ঈদে দুই লাখ গবাদিপশুর প্রয়োজন পড়ে। এখন রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোরবানির জন্য উপযুক্ত পশু।
তিনি আরো জানান, যেহেতু এক মহামারীর সময় চলছে সেহেতু রাজশাহীর বড় খামারিদের অনলাইনে পশু বিক্রির পরামর্শ দিয়েছি। এতে হাটের ওপরে চাপ কমলে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি কমবে।
এদিকে খামারের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলেছেন, করোনার কারণে সংকটে রয়েছেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা। যারা সাধারণত একাধিক ভাগে কোরবানি দিয়ে থাকেন। ফলে তাদের অনেকেই চলতি বছর কোরবানি দিতে পারবেন কিনা- তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এতে করে কোরবানির পশু বিক্রি কম হচ্ছে।
করোনা মহামারি থেকে বাঁচার অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে ভিড় এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা। সামাজিক দূরত্ব না মানার কারণেই আমাদের দেশে করোনা বেশি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। আর আমাদের মানুষগুলোও এ বিষয়ে অভ্যস্ত নয় বিধায় রাজশাহীর কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এখানকার সুশীল সমাজ।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটে একটি পশু থেকে আরেকটির দুরত্ব পাঁচ ফুট থাকতে হবে। কিন্তু কোনো পশুর হাটে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না। এছাড়াও মুখে মাস্ক না থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতাকে হাটে প্রবেশ করতে না দেয়া, হাটে প্রবেশ মুখে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণকারী যন্ত্র স্থাপন এসব কিছুই নেই।
এ বিষয়ে সিটি হাট ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, আমরা সবাইকে মাস্ক পরার কথা বলি কিন্তু কেউ শুনে না। হাটে এবার দেশি গরুর প্রাধান্যই বেশি। অল্প কিছু ভারতীয় গরু বিভিন্নভাবে এসেছে। কিন্তু বেচাকেনা খুবই খারাপ। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসেও গরুর হাট জমে ওঠেনি। এই অবস্থায় যারা দেশীয় পদ্ধতিতে খামারে গরু মোটাতাজা করেছেন তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য এখন থেকে হাটের দিন লোক পাঠাবো। তবে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রেখেছি।
এদিকে গোটা হাট কাঁদা পানিতে তলিয়ে থাকলেও সিটি হাট থেকে বছরে কোটি টাকার উপরে রাজস্ব আসে। কিন্তু হাটের কোন উন্নয়ন হয়নি। সিটি হাটেই ফেলা হয় গোটা শহরের ময়লা আবর্জনা থেকে শুরু করে হাসপাতালের বর্জ্যও।
এ বিষয়ে জানতে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দীন এর সাথে যোগাযোগ করা জলে তিনি জানান, ‘হাটে হাঁটু পর্যন্ত কাদা। আমি নিজেই গরু কিনতে গিয়ে দেখেছি। এ বিষয়টি কেনো সংস্কারের তালিকায় আসছে না, তা জানার জন্য মেয়র স্যার ঠিকাদারকে ডেকেছিলেন।