নওগাঁয় ব্যাস্ততা নেই কামার পল্লী গুলোতে অলস সময় পার করছে কামারেরা  

প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০, 584 জন দেখেছেন

নাসির উদ্দিন চঞ্চল (নওগাঁ)প্রতিনিধি- নওগাঁয়  অলস সময় পাড় করছেন কামার পল্লীর কামারেরা।প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কমে গেছে লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দ।

 

ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর মাংস কাটার সরন্ঞ্জাম  তৈরির কাজে কামার পল্লীতে এসময় থাকবেনা লোহা পিটানোর টুং টাং শব্দ,  ভিড় থাকবেনা এমনটা ভাবা অসম্ভব। কিন্তু জেলা জুড়ে এটিই বাস্তব চিত্র বর্তমান কামার পল্লীর । বিগত বেশ কয়েক বছর গুলোর তুলনায় এবছরের চিত্র একদম ভিন্ন।নেই ঈদের কেনা কাটার আগাম আনন্দ। নেই পশুর মাংস কাটার সরন্ঞ্জাম  ছুরি চাপাতি ক্রয়ের ক্রেতাদের ভিড়।

 

ঈদ আসতে আর মাত্র বাঁকি কয়েকদিন। কোরবানির জন্য অনেকেই সাধ্যমত কিনছে কোরবানির পশু। কিন্তু পশু জবাই ও মাংস প্রস্তত করতে ব্যাবহত সামগ্রী ছুরি,চাপাতি,ইত্যাদি কিনতে লোকজনের কামারের দোকানে নেই তেমন ভিড় ।দিনের প্রায় বেশি সময় কর্মহীন অলস সময় পার করছেন এই অঞ্চলের কামারেরা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার কামার পল্লীগুলো ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে।

করোনায়  কর্মহীন হওয়ায় এবং ঘূর্ণি ঝড় আম্পান সহ বর্তমান সময়ে লোকজন বন্যাকবলিত হওয়ায় এবছর মানুষের অর্থ সংকট বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছর যারা কোরবানি করেছে এবছর তারা অনেকেই  কোরবানি করতে পারছেনা। ফলে কামারের কাছে সরন্ঞ্জাম কিনতে ভিড়ছে না তেমন সংখ্যক ক্রেতারা।এমনটিই বলছেন  ভবানীপুর বাজরের সুবোধ কর্মকার।তিনি বলেন এবারের মতো এমন খারাপ অবস্থা এর আগে কখনো হয়নি।পুরাতন ছুরি চাপাতি এসব মেরামতের জন্য দু একজন নিয়ে আসছে। এছাড়া ও এখন বাজারে বিভিন্ন দোকানে রেডিমেট ছুরি. চাপাতি. বটি. দা. ছোট চাকু. এসব বিক্রি করে । তাই আর আগের মতো  চাহিদা নেই। সেই সাথে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পশুর মাংস কাটার সরন্ঞ্জাম ধারলো করতে প্রযুক্তির সহয়তা নিচ্ছেন ক্রেতারা। প্রতি বছর ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে বাড়তি আয়ের আশায় দিন রাত পরিশ্রম করে থাকে। এ জন্য কামারিরা প্রায় মাস খানেক  আগে থেকেই কোরবানির পশুর মাংস কাটতে শত শত , লোহা পুড়িয়ে লাল করে হাতুড় দ্বারা পিটিয়ে, দা বটি, চাপাতি,ছুরি তৈরি করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বাক্রি করে এবং মজুদ করে থাকেন। তৈরিকৃত এসব সরন্ঞ্জাম ক্রয় করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকার আসতো।এবার পাইকার অনেক কম আসায় প্রভাব পড়েছে পাইকারি বিক্রতে।  অনেকেই বলছেন করোনা এবং বন্যাকবলিত হওয়ায় এবার এমন প্রভাব পড়েছে এই কামার শিল্পে  ।