যে পদ্ধতি অবলম্বনে পূর্ণ কুরবানির ছাওয়াব মিলে

প্রকাশিত: ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০, 669 জন দেখেছেন

মু.মাহদী হাসান ইসলামিক কলামিস্টঃ-

আজই চুল, নখ ও যাবতীয় পশম কেটে ফেলুন৷
আজ যিলক্বদের ২৯ তারিখ৷ আজ যিলহজ্বের চাঁদ উঠতেও পারে, নাও উঠতে পারে৷ তাই সর্তকতা অবলম্বনে আগামী ১০ দিনের চুল, নখ ও যাবতীয় পশম না কাটার আমলের প্রস্তুতির জন্য আজই চুল, নখ ও যাবতীয় পশম কেটে ফেলুন৷
যিলহজ্বের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানীর আগ পর্যন্ত নিজের চুল, নখ, মোচ, শরীরের পশম ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। হযরত উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:
ﺇﺫﺍ ﺭﺃﻳﺘﻢ ﻫﻼﻝ ﺫﻱ ﺍﻟﺤﺠﺔ ﻭﺃﺭﺍﺩ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺃﻥ ﻳﻀﺤﻲ – ﻓﻠﻴﻤﺴﻚ ﻋﻦ ﺷﻌﺮﻩ ﻭﺃﻇﻔﺎﺭﻩ –
অর্থঃ যিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখতে পাওয়ার পর তোমাদের কেউ যদি কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তাহলে সে যেনো স্বীয় চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।
(সহীহ মুসলিমঃ হা-১৯৭৭; সুনানে তিরমিযীঃ হা-১৫২৩; সুনানে আবি দাউদঃ হা-২৭৯১; সুনানে নাসায়ীঃ হা-৪৩৬২; সহীহ ইবনে হিব্বানঃ হা-৫৮৯৭)
যে ব্যক্তি কুরবানী করতে সক্ষম নয়, সেও এই আমল পালন করবে। অর্থাৎ নিজের চুল, নখ, মোচ ইত্যাদি কাটবে না; বরং তা কুরবানীর দিন কাটবে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ﺃﻣﺮﺕ ﺑﻴﻮﻡ ﺍﻷﺿﺤﻲ – ﺟﻌﻠﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻴﺪﺍ ﻟﻬﺬﻩ ﺍﻷﻣﺔ – ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺮﺟﻞ : ﺃﺭﺃﻳﺖ ﺇﻥ ﻟﻢ ﺃﺟﺪ ﺇﻻ ﻣﻨﻴﺤﺔ ﺃﻧﺜﻲ ﺃﻓﺄﺿﺤﻲ ﺑﻬﺎ؟ ﻗﺎﻝ : ﻻ ﻭﻟﻜﻦ ﺗﺄﺧﺬ ﻣﻦ ﺷﻌﺮﻙ ﻭﺃﻇﻔﺎﺭﻙ ﻭﺗﻘﺺ ﺷﺎﺭﺑﻚ ﻭﺗﺤﻠﻖ ﻋﺎﻧﺘﻚ ﻓﺘﻠﻚ ﺗﻤﺎﻡ ﺃﺿﺤﻴﺘﻚ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ
অর্থঃ আমি কুরবানীর দিন সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি (অর্থাৎ এই দিবসে কুরবানী করার আদেশ করা হয়েছে।) আল্লাহ তা’আলা তা এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
এক ব্যক্তি আরয করলো- ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানিহা থাকে (অর্থাৎ যা শুধু দুধ পান করার জন্য দেওয়া হয়েছে?) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- না; বরং সেদিন তুমি তোমার চুল কাটবে, নখ কাটবে, মোচ এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহ তা’আলার কাছে তোমার পূর্ণ কুরবানী বলে গন্য হবে।
(মুসনাদে আহমাদঃ হা-৬৫৭৫; সহীহ ইবনে হিব্বানঃ হা-৭৭৩; সুনানে আবি দাউদঃ হা-২৭৮৯; সুনানে নাসায়ীঃ হা-৪৩৬৫)